ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে বাড়ির দাম অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়েছে। গত বছরের নভেম্বরে বাজেট ঘোষণার আগে বাজারে যে নেতিবাচক গুঞ্জন ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে তা অনেকটাই কেটে গেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম বিল্ডিং সোসাইটি নেশনওয়াইডের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে দেশটিতে একটি বাড়ির গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ১৭৬ পাউন্ড। অর্থাৎ জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে বাড়ির দাম বেড়েছে দশমিক ৩ শতাংশ, যা বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
বার্ষিক হিসাবে দেখা গেছে, বাড়ির দাম বাড়ার হার ১ শতাংশে স্থিতিশীল রয়েছে। মূলত প্রপার্টি ট্যাক্স বা সম্পত্তি কর নিয়ে বড় কোনো পরিবর্তনের আশঙ্কা না থাকায় মানুষ এখন নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর ব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়ে বড় কোনো নেতিবাচক খবর না থাকায় ক্রেতাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।
নেশনওয়াইডের প্রধান অর্থনীতিবিদ রবার্ট গার্ডনার জানান, ২০২৫ সালের শেষের দিকে আবাসন খাতে যে মন্দা দেখা দিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তা কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত বছরের তুলনায় আবাসন বাজারে কেনাবেচার পরিমাণ ১০ শতাংশ বেড়েছে। তবে ইতিবাচক এ খবরের পাশাপাশি কিছু বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জও সামনে আসছে। ধারণা করা হয়েছিল মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের নিচে নেমে আসবে এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সুদহার কমিয়ে দেবে। কিন্তু ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সুদহার দীর্ঘ সময়ের জন্য চড়া থাকতে পারে।
আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছর প্রায় ১৮ লাখ বাড়ির মালিকের বর্তমান মর্টগেজ চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। সুদহার বেশি থাকায় তাদের নতুন করে ঋণ নিতে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হতে পারে। যদিও জানুয়ারিতে নতুন মর্টগেজ অনুমোদনের হার কিছুটা কমে ৫৯ হাজার ৯৯৯-এ নেমেছে, তবুও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি আশাব্যঞ্জক। সরকার যদি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক নীতি বজায় রাখতে পারে, তবে ২০২৬ সাল জুড়ে যুক্তরাজ্যের আবাসন খাত আরো শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।